ঢাকা , শনিবার, ২৯ মার্চ ২০২৫ , ১৫ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এলজিইডিতে কে এই বহুরূপী

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৩-০৩-২০২৫ ১২:০২:২৭ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ২৩-০৩-২০২৫ ১২:০২:২৭ পূর্বাহ্ন
এলজিইডিতে কে এই বহুরূপী নাম তার মো. আবু ফাত্তাহ।

স্টাফ রিপোর্টারঃ

নাম তার মো. আবু ফাত্তাহ। কখনো সাংবাদিক, কখনো সম্পাদক। কখনো বা এলজিইডি’র পাবলিক রিলেশন অফিসার (পিআরও) হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ঢুকে দেখা যায়, সিনিয়ির জার্নালিস্ট হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়ে রেখেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে তিনি এলজিইডি’র মিডিয়া পরামর্শক হিসাবে নিয়োজিত রয়েছেন। এখানে যোগদানের পূর্বে একটি জাতীয় দৈনিকে সাব-এডিটর হিসেবে কাজ করতেন তিনি। এলজিইডিতে মিডিয়া পরামর্শক পদটি তিনি বাগিয়ে নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। পতিত শেখ হাসিনা সরকার প্রধানের তৎকালীন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের সুপারিশে এলজিইডিতে মোটা অংকের বেতনে মিডিয়া কনসালটেন্ট হিসেবে চাকরি পান সিরাজগঞ্জের আবু ফাত্তাহ। প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত অনেক প্রধান প্রকৌশলী অবসরে গেলেও এবং ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও এখনো বহাল তবিয়তে মিডিয়া কনসালটেন্ট ফাত্তাহ। পুরো আওয়ামী সরকারের আমলে আওয়ামী প্রভাব খাঁটিয়ে মিডিয়া কনসালটেন্সির আড়ালে বিভিন্ন প্রকল্পে চাকরির তদবির-বানিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। গত ৫ আগষ্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর চাকরি বাঁচাতে রাতারাতি ভোল পালটিয়ে নিজেকে বিএনপিপন্থী একজন হিসেবে জাহির করছেন। জানা যায়, সাংবাদিক হিসেবে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার করে আতাতের মাধ্যমে নির্দিৃষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেন তিনি। প্রকল্প পরিচালক থেকে শুরু করে সবার কমিশন ঠিক-ঠাক মতো নিজ দায়িত্বে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বও তার। অনুসন্ধানে জানা যায়, সংবাদ প্রকাশের জন্য আগারগাঁও এলজিইডি ভবনে কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাক্ষাতকার অথবা বক্তব্য নেওয়ার জন্য সাংবাদিক প্রবেশ করলে তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে যান। এবং কী বিষয়ে এসেছেন তা জানতে চান। পরে ওই সাংবাদিককে তিনি নিউজ না করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। সংবাদ প্রকাশ না করার শর্তে কখনো কখনো বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব করেন। কখনো তিনি নিজেকে বড় সাংবাদিক দাবী করে প্রভাব বিস্তার করেন। তার নিজের একটি পত্রিকা অফিস আছে এবং তিনি ওই পত্রিকার সম্পাদক বলেও দাবী করেন। আরো জানা যায়, এলজিইডি ভাবনে অপেশাদার বা ভূইফোড় সাংবাদিকদের দৌরাত্ম রয়েছে। ফাত্তাহ তাদের কাছে বিভিন্ন প্রকৌশলীদের দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্রিকার এসব কার্ডধারী পত্রিকার সাংবাদিককে নির্দিষ্ট প্রকৌশলীর কাছে পাঠিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করেন। পরে দায়িত্ব নিয়ে ওই সাংবাদিককে ম্যানেজ করার কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন ফাত্তাহ নিজেই। এটিই মূলত তার মোটা অংকের টাকা রোজগার করার একটি মাধ্যম। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডি’র একাধিক প্রকৌশলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফাত্তাহ’র অত্যাচারে ভবনের অনেক প্রকৌশলী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আতঙ্কে থাকেন বলেও জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ